লেবাননে যুদ্ধের আগুন আবার জ্বলে উঠেছে খুব জোরে! গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের হামলা এখন লেবাননের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে — এমনকি বৈরুত শহরের মাঝখানেও!
কী হচ্ছে এক নজরে:
- ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণ, পূর্বাঞ্চল আর বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি (দাহিয়ে)তে বড় বড় বিমান হামলা চালিয়েছে।
- প্রথমবারের মতো বৈরুতের হৃদয়ে হামলা: রাউশে (Raouche) এলাকার একটা হোটেলের রুমে ড্রোন হামলা করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে — অন্তত ৪ জন মারা গেছে, ১০ জন আহত।
- ইসরায়েল বলছে: এই হামলায় ইরানের বিশেষ বাহিনী কুদস ফোর্সের ৫ জন সিনিয়র কমান্ডার মারা গেছে, যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিল।
এদিকে লেবাননের পক্ষ থেকে:
- হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরে রকেট আর ড্রোন ছুড়ছে প্রতিদিন। নাহারিয়া, হাইফা পর্যন্ত লক্ষ্য করছে।
- লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে লড়াই চলছে, যেমন আইতারৌন এলাকায়।
দুঃখের খবর:
- দক্ষিণ লেবাননে লড়াইয়ে ইসরায়েলের দুই সেনা মারা গেছে — এটাই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম ইসরায়েলি সেনা মৃত্যু।
- একজনের নাম: মাস্টার সার্জেন্ট মাহের খাতার (৩৮ বছর), মাজদাল শামসের বাসিন্দা।
- অন্যজনের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
- লেবাননে গত এক সপ্তাহে মারা গেছে ৩৯৪ জন (লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব): এর মধ্যে ৮৩ শিশু, ৪২ নারী, ৯ জন উদ্ধারকর্মী।
সবচেয়ে বড় সমস্যা: বাস্তুচ্যুত মানুষ!
- যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫ লাখ ১৭ হাজার মানুষ ঘর ছেড়েছে।
- এর মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আছে।
- লেবাননের সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী বলেছেন: এটা একটা বিরাট মানবিক সংকট।
- প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন: “আমরা এই যুদ্ধ চাইনি, বেছে নেইনি। কিন্তু এখন আমাদের দেশকে টেনে নেওয়া হয়েছে একটা ভয়ানক যুদ্ধে।”
কেন এই এসকেলেশন?
- গত মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে ইসরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় মেরে ফেলা হয়।
- তার প্রতিশোধে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা শুরু করে (২ মার্চ থেকে)।
- এরপর ইসরায়েল লেবাননে বড় করে হামলা চালাচ্ছে। (আগের যুদ্ধ ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু এখন আবার পুরোপুরি যুদ্ধ।)
এখন অবস্থা খুব উত্তপ্ত — লেবাননে আরও বড় আক্রমণের ভয়, ইসরায়েলের উত্তরে রকেটের ভয়। সবাই আশা করছে যেন তাড়াতাড়ি শান্তি ফিরে আসে, কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।