যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যাতে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অংশে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এটিকে "প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক" (পূর্বপ্রতিরোধমূলক হামলা) হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা মাসের পর মাস যৌথ পরিকল্পনার ফলস্বরূপ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে "মেজর কমব্যাট অপারেশনস" (বড় ধরনের যুদ্ধকর্ম) বলে উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে এটি কয়েকদিন ধরে চলতে পারে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও পোস্ট করে ইরানি জনগণকে তাদের সরকার দখল করার আহ্বান জানিয়েছেন, বলেছেন যে "আমেরিকান জীবন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে" এবং ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্নির্মাণের অভিযোগ করেছেন।
ইরানের প্রতিক্রিয়ায়, ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) ইসরায়েলের দিকে মিসাইল এবং ড্রোনের "প্রথম তরঙ্গ" চালিয়েছে, যার ফলে উত্তর ইসরায়েলে বিস্ফোরণ এবং একজন আহত হয়েছে। এছাড়া, দুবাই, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং কাতারে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, "সময় এসেছে দেশ রক্ষার" এবং তারা "দমনমূলক প্রতিক্রিয়া" দেবে।
#### সর্বশেষ আপডেটসমূহ (স্থানীয় সময় অনুসারে, সর্বশেষ থেকে)
১০:২০: উত্তর ইসরায়েলে একটি নয়তলা ভবনে ইরানি মিসাইলের শ্রাপনেল আঘাত করে অন্তত একজন আহত। ইসরায়েলের ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, ৫০ বছর বয়সী একজন পুরুষ হালকা বিস্ফোরণজনিত আঘাত পেয়েছেন।
১০:১৮ : তেহরানে পুনরায় বিস্ফোরণ শোনা গেছে, যা অভিযান চলমান থাকার ইঙ্গিত দেয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, "ইরানের প্রতিবেশীদের প্রতি শুধুমাত্র ভালো উদ্দেশ্য রয়েছে, কিন্তু আমরা সবসময় বলে এসেছি যে নিজেকে রক্ষা করব।"
১০:১৬ : তেহরানে লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনির সাথে যুক্ত স্থানসমূহ অন্তর্ভুক্ত, যেখানে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসের কাছে সাতটি মিসাইল আঘাত করেছে।
১০:১৪ : এয়ার ইন্ডিয়া মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
১০:১২ জিএমটি: ইরাকের জুর্ফ আল-সাখারে বিমান হামলায় দুজন হাশিদ শাবি যোদ্ধা নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত।
১০:১০ : জর্ডান তার ভূখণ্ডের উপর দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করেছে।
১০:০৮ : ভিডিওতে দেখা গেছে ইরান বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করেছে।
১০:০৬ : ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে "বিপজ্জনক" বলে অভিহিত করে নাগরিক সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
১০:০৪ : ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা নিশ্চিত করে বলেছে যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ধ্বংস করেছে; আবু ধাবিতে শ্রাপনেল পড়ে একজন নিহত।
১০:০২ : বাহরাইন হামলাগুলোকে "বিশ্বাসঘাতকতামূলক" বলে নিন্দা করেছে; মানামায় ধোঁয়া দেখা গেছে।
০৯:৫৬ : আবু ধাবিতে ইরানি মিসাইল ধ্বংসের পর অন্তত একজন নিহত।
০৯:৫১ : তেহরানে উচ্চস্বরের বিস্ফোরণ।
০৯:৫০ : কাতার এয়ারওয়েজ সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
০৯:৫০ : ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের "নৃশংস বিমান অভিযান" নিন্দা করে বলেছে যে এটি আলোচনার মাঝে হয়েছে।
৯:৪৫ : আবু ধাবি এবং দুবাইতে আরও বিস্ফোরণ।
০৯:৪৪ : ইরান আল-উদেইদ (কাতার), আল-সালেম (কুয়েত), আল-ধাফরা (ইউএই) এবং ফিফথ ফ্লিট (বাহরাইন) ঘাঁটিতে হামলা নিশ্চিত করেছে।
০৯:৪৩ : রিয়াদে বিস্ফোরণ।
সংঘাতের পটভূমি
এই অভিযান গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইরানের পুনর্নির্মাণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসেছে। ইসরায়েল গত বছর জুনে "অপারেশন রাইজিং লায়ন" চালিয়েছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে এই হামলার লক্ষ্য "ইরানের সন্ত্রাসী শাসনের অস্তিত্বশীল হুমকি দূর করা"। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন বলে রিপোর্ট।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং প্রভাব
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থা উভয় পক্ষকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইইউ নাগরিক সুরক্ষার দাবি করেছে। তুর্কিশ এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজসহ একাধিক এয়ারলাইন মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইরানে ইন্টারনেট বিঘ্নিত হয়েছে, যা ঘটনার দৃশ্যমানতা কমিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে এটি অঞ্চলে বড় যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
যাচাইয়ে দেখা গেছে যে উভয় পক্ষের দাবিগুলো অংশত যাচাইকৃত, কিন্তু ক্যাজুয়ালটি এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, যা কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে মিটানো উচিত। (সূত্র: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া আপডেটস; পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল।)