ITGenius24 Logo

Sunday, March 15, 2026 09:48 PM

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংঘাত: কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় বিমান হামলা, উভয় পক্ষের দাবিতে শতাধিক নিহত

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংঘাত: কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় বিমান হামলা, উভয় পক্ষের দাবিতে শতাধিক নিহত
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া এবং কান্দাহার প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়ে ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত করার দাবি করেছে। একই সঙ্গে তালেবানের ৭৩টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং ১৮টি দখল করার কথা জানিয়েছে ইসলামাবাদ। এছাড়া ১১৫টি ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান এবং আর্টিলারি অস্ত্র ধ্বংসের দাবিও করেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করেছে যে তারা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডুরান্ড লাইন এলাকায় হামলা চালিয়ে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত করেছে এবং কয়েকজনকে বন্দি করেছে। যদিও পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে যে তাদের মাত্র ১২ জন সেনা নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে, এবং একজন নিখোঁজ।

এই সংঘাতের সূত্রপাত গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় (স্থানীয় সময়), যখন আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিগুলোতে অতর্কিত হামলা চালায়। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন যে এটি পাকিস্তানের পূর্ববর্তী বিমান হামলার (২১-২২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিশোধমূলক অভিযান। ওই হামলায় আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার, পাকতিকা এবং খোস্ত প্রদেশে তালেবানের ক্যাম্প লক্ষ্য করে পাকিস্তান ৭০-৮০ জন মিলিট্যান্ট নিহত করার দাবি করলেও, আফগানিস্তান এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১৮ জন সাধারণ নাগরিক নিহতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই হামলাকে "অপ্রত্যাশিত" বলে অভিহিত করে "অপারেশন গাজাব লিল হক" (রাইটিয়াস ফিউরি) নামে একটি বড় ধরনের প্রত্যাঘাত শুরু করেন। এই অভিযানে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী ২২টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যার মধ্যে কাবুলের পুল-ই-চারখি কারাগার এলাকা, কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি এবং তালেবানের ব্রিগেড সদর দফতর অন্তর্ভুক্ত। আফগানিস্তানের দাবি অনুসারে, এতে ১৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছে, সাথে কয়েকজন সাধারণ নাগরিকও আহত। তবে এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এই সংঘাতের মূল কারণ হলো ডুরান্ড লাইন সীমান্তের বিতর্ক এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) মিলিট্যান্টদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ। পাকিস্তান অভিযোগ করে যে আফগান তালেবান টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে, যা পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তান পাকিস্তানকে অভিযোগ করে যে তারা আফগান ভূখণ্ডে অবৈধ হামলা চালাচ্ছে এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করছে। ২০২৫ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে ছোটখাটো সংঘর্ষ বেড়েছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্তে ছোটখাটো গোলাগুলি শুরু হয়, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বড় ধরনের অভিযানে পরিণত হয়। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বলেছেন যে হামলাগুলো "সামরিক স্থাপনা" লক্ষ্য করে করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা পাকিস্তানের মিরানশাহ এবং স্পিন ওয়াম এলাকায় রকেট হামলা চালিয়েছে।


জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা উভয় পক্ষকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের "আত্মরক্ষার অধিকার" সমর্থন করেছে। এই সংঘাত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে, যা উভয় দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে এটি আরও বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

যাচাইয়ে দেখা গেছে যে উভয় পক্ষের দাবিগুলো ডিসপুটেড, কিন্তু ঘটনার মূল অংশটি নিশ্চিত করা হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া সোর্স থেকে। এই সংঘাত দুই মুসলিম প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি প্রকাশ করে, যা কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে মিটিয়ে তোলা উচিত।