ITGenius24 Logo

Sunday, March 15, 2026 11:49 PM

বিস্ফোরণে বাঁধ উড়িয়ে দিলো পাকিস্তান : পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা

বিস্ফোরণে বাঁধ উড়িয়ে দিলো পাকিস্তান : পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
পাকিস্তানে বৃষ্টিপাতের পরের চিত্র। ক্রেডিট: রয়টার্স ফাইল ছবি

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতে টানা ভারী বর্ষণের ফলে আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তান সরকার চেনাব নদীর কাদিরাবাদ বাঁধের তীররক্ষা অংশে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাঁধটি উড়িয়ে দেয়।

বন্যার কারণ ও বিস্ফোরণের সিদ্ধান্ত

ভারতের উজানে অবস্থিত বাঁধগুলো থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে চেনাব, রাভি ও সুতলেজ নদীতে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে পাঞ্জাব প্রদেশে ব্যাপক বন্যার আশঙ্কা দেখা দেয়। বাঁধের চাপ সামলাতে এবং মূল অবকাঠামো রক্ষা করতে পাঞ্জাব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বাঁধের ডান পাশের তীররক্ষা অংশ ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পাঞ্জাবের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র মাজহার হোসেন বলেন,

“বাঁধের চাপ সামলাতে আমরা ডানপাশের তীররক্ষা অংশ উড়িয়ে দিয়েছি। এতে পানির প্রবাহ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছি।”

ধর্মীয় স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি

বন্যার পানিতে ইতোমধ্যে শিখ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র স্থান কর্তারপুর মন্দির সম্পূর্ণভাবে ডুবে গেছে। ১৫৩৯ সালে নির্মিত এই স্থাপনাটি গুরু নানকের মৃত্যুস্মৃতি বিজড়িত। আটকে পড়া প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধারে পাঁচটি নৌকা পাঠানো হয়েছে।

মানবিক বিপর্যয় ও সেনা মোতায়েন

পাঞ্জাব প্রদেশে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করে মানুষ ও গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ইরফান আলি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান, সতর্ক করে বলেন,

“আজ রাত ও আগামীকাল ভোরের মধ্যে বন্যার পানির ঢল লাহোরে পৌঁছাতে পারে।”

ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক যোগাযোগ

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আগাম নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বাঁধের জলকপাট খোলার বিষয়ে। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি

চলতি বর্ষা মৌসুমে পাকিস্তানে প্রবল বর্ষণ, ভূমিধস ও বন্যায় ইতোমধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।